Showing posts with label ইসলামিক ভালোবাসার গল্প. Show all posts
Showing posts with label ইসলামিক ভালোবাসার গল্প. Show all posts

Nov 11, 2018

ইসলামে ইলম শিক্ষার গুরুত্ব ও ফজিলত এবং ইলম এর প্রকারভেদ



যারা যারা ধারণা করে অাছেন,"অামিনা অাপু জেনারেলে পড়ে 'এত কিছু(!)' কিভাবে জানে😱😱" তারা বিসমিল্লাহ বলে অামার লিখাটা পড়া শুরু করেন।
ইলম হচ্ছে অাত্মার খাবার,যে যাই বলুক,অামার কাছে ইলম মানেই অাত্মার খাবার মনে হয়,অাপনি যদি অামার সাথে সহমত প্রকাশ না করেন,সমস্যা নাই।অামি অাপনার মতকেও সম্মান করি।
ইলম কে ভাগ করলে অাপনি কয়েক প্রকার পাবেন।প্রায়োগিক দিক থেকে ইলম দুই প্রকার।
১.উপকারী ইলম।
২.অনুপকারী ইলম।
অাপনি প্রয়োগ করার জন্য নিশ্চয় উপকারি ইলমই বেছে নিবেন,তাইনা?
অাবার গ্রহণযোগ্যতা ও অর্জনের দিক থেকে ইলম দুই প্রকার।
১.রিয়া তথা লোক দেখানোর জন্য,নিজের বড়ত্ব জাহিরের জন্য ইলম।

ইলম তলবে ব্যর্থতা বোঝার পর মাথায় প্রশ্ন অাসে,
"অামি তো জেনারেলে😞😞😞
কোথা থেকে জ্ঞানার্জন করব?😔
এখন তো মাদরাসায় পড়াও সম্ভব না😟"
সুসংবাদ নিন,ইলম তলবের জন্য মাদরাসা কোনও শর্ত না।অাপনার থলিতে একগাদা ইলম অাছে কিন্তু অাপনার অামলের খাতা শূণ্য,তাহলে অাপনার ওই ইলমের কোনও দাম ই নেই।শুধু দাম ই না,ওই ইলমের কোনও জরুরিয়াতও নাই।অাপনি স্পষ্টত জাহেলিয়াতে ডুবে অাছেন এটা কনফার্ম। কারন ইলম তলবই জাহেলিয়াত হতে মুক্তির শর্ত না,জাহেলিয়াত হতে মুক্তির শর্ত হলো ঈমান অানা,মুখে স্বীকার,কাজে প্রয়োগ করা,ক্লিয়ার?
এখন অাপনার মনে নিশ্চয়ই প্রশ্ন জাগছে এত হাদিস,সমগ্র কুরঅান,অর্থ,তাফসির,সিরাহ,বিভিন্ন মাসঅালা,অাক্বিদা.........
এত কিছু কিভাবে অায়ত্ব করবেন?এ টু জেড অায়ত্ত করা তো সম্ভব না,অাবার ইলম অর্জনও ফরজ,তাহলে কি করবেন?তার উত্তর স্ক্রিনশটে অাছে কষ্ট করে দেখে নিন।
এবার অাসি অাপনাদের অামিনা অাপুর ব্যাপারে।
অাপনাদের অামিনা অাপুর দ্বীনের পথে হাতেখড়ি ছিলো লুৎফুর স্যারের মাধ্যমে।অাল্লাহ উনাকে জাযাহ দিন।একবার মুসলিমাহ'স দুনিয়া কালেকশন পেইজে পর্দা নিয়ে একটা স্টোরি পড়ার পরই পরিবর্তন অাসছিল।তারপর বিভিন্ন দ্বীনি গ্রুপে এড হচ্ছিলাম।এক জায়গায় নামায পড়ার এক নিয়ম দেখছিলাম।কি অবস্থা!অামি কনফিউজড,কিভাবে নামায পড়ব....!তখন সামনে এলো অাহলে হক মিডিয়া,অামার প্রথম উস্তায,লুৎফুর স্যার.....
অামি রাতের দশটা বাজেও উনাকে ফোন করে জ্বালিয়েছিলাম মাসঅালার জন্য অামার ইয়াদ অাছে।নামায কিভাবে পড়বো ওই ভয়েই সারা ছিলাম অামি।প্রতি ওয়াক্ত নামায দুইবার পড়তাম,একবার ছেলেদের সাথে মিল রেখে,একবার পার্থক্য করে।
একদিকে অামেনা বিনতে অাজিজুর রহমান অাপার পোষ্টগুলো পড়তাম,অারেকদিকে লুৎফুর স্যারের গুলা.....
পুরো তিন/চার মাস লাগছে অামার অাক্বিদা,ইখতিলাফ,নামায সম্পর্কে জানতে।ওই সময় অামি একাধারে তিনটা গ্রুপে ছিলাম,এখনও অাছি।একটা অামল ঘর,অারেকটা হাম্বলি ফিকহ,অারেকটা অামেনা অাপার গ্রুপ দ্বীন প্রচারে নারীদের পথচলা,যদিও নাম বদলেছে এখন।তো যা হোক,ভিন্ন ভিন্ন মত দেখে অামার মাথা গুলিয়ে যেত,তখনই অামি মাসঅালা নিয়ে পড়েছিলাম।এসব অামি এই যে গ্রুপগুলো,প্লে স্টোর থেকে এপ্স অার ইউটিউব থেকে শিখেছি।তারপর নাস্তিকদের সাথে মাঝখানে মাসখানেক সময় ডিবেট করেছিলাম,তখন শিখেছি ইসলামের সেসব বিষয়গুলো সম্পর্কে,যেসবকে ঘুরিয়ে প্যাঁচিয়ে তারা অামাদের ঈমান বিনষ্ট করে।তখন অামার সাথ দিয়েছিলেন অামার অারেকজন উস্তায,যার কাছ থেকে কদিন মিযান শিখেছিলাম,পরে অার শিখা হয়নি অামার গাফিলাতির কারণে।অাসলে অামি যখন যেই বিষয় নিয়ে কাজ করি,তখন সেই বিষয়ে জ্ঞানার্জন করি।এই যে "শায়খ" পড়ে অাপনারা অামায় মাথায় তুলে ফেলছেন,অামার মাঝে অহমিকা,রিয়া জাগাতে সাহায্য করছেন,তারা অাদতে অামার অবস্থান দেখলে অবাক হয়ে যাবেন।কদিন অাগে যাইনপার মাথা পাগল করে দিচ্ছিলাম অামি "উসুল" কি,সেটা নিয়ে।অামার উস্তাযকে তো দুই তিনদিন পরপর ই জ্বালাই এটা ওটা নিয়ে প্রশ্ন করে।অামি অাসলেই কিছু জানিনা, যতটুকু জানি ততটুকুই প্রকাশ করে ফেলি।এই যে সেদিন গশিয়াহ নিয়ে লিখেছিলাম শায়খে,বায়তুল মামুর সম্পর্কে লিখেছিলাম,বিশ্বাস করুন,অামি যেদিন লিখেছিলাম সেদিনের অাগে এসবের সম্পর্কে জানতাম না।হটাৎ একদিন মন চাইলো গশিয়াহর তাফসির পড়তে,পড়লাম,পড়ার পর শায়খ অার তাফসিরটার ধারণা দিয়ে একটা পর্ব লিখে ফেললাম,অাসলে অামার ইলম অর্জনের ধরণ এমনই,অার অামার ইলম অাসলেই এত কম....
কাজেই অাল্লাহর ওয়াস্তে নেক্সট অার কেউ অামাকে কমেন্ট বক্সে,ইনবক্সে,হোয়াটসঅাপে,ফোনে......
কোথাও এই প্রশ্নটা করবেন না,"তুমি জেনারেলে পড়েও এত কিভাবে জানো অামিনা অাপু?"
প্লিজ!অামি এমনিতেই কয়েকবার দ্বীন থেকে দূরে সরে গিয়েছিলাম।
অাল্লাহর অশেষ করুণার কারণেই অামি অাবার ফিরে অাসতে পেরেছি।ব্যাক্তিগত জীবনেও অামার অামল কম,অন্ততপক্ষে ইলমের তূলনায় অামার অামলের খাতা একেবারেই ফাঁকা।
কাজেই একটু সদয় হন,একটু ইহসান করেন।এসব প্রশ্ন করে অামার মাঝে অহংকার অার রিয়ার জন্ম দিয়েন না।অামাকে এত ইলমধারীও ভাবিয়েন না।
অামি খুবই নিম্ন,দূর্বল ঈমানের,স্বল্প অামল,স্বল্প ইলমের একজন মানুষ,অামাকে শায়ত্বানের ধোঁকায় অার পরতে দিয়েন না।
জাযাকুমুল্লাহ!!

ইসলামে স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প পর্ব - ১২



"শায়খ"
পর্ব বারো.....
--ওরে অাল্লাহ রে.......
এত্ত বড় সাপ কেন!
অামিনা!ও অামিনা!বের হও,বের না হলে দরজা খুলো......
খুলো না কেন?দরজা খুলো তাড়াতাড়ি,এত্ত বড় সাপ!!!
গোসলের জন্য গোসলখানায় গিয়েছিলাম,এক মিনিটের মাথায় ই শায়খের চিৎকার শুনে তাড়াতাড়ি দরজা খুললাম।দরজা খোলা মাত্র উনি তড়িঘড়ি করে ওয়াশরুমে ঢুকলেন।অামি তো ভয়ে চুপসে গেছি,অাসলেই কি সাপ?
--কি হলো?কোথায় সাপ?এত অশান্ত হয়ে অাছেন কেন?
--ইয়া অামিনা,অার বলিওনা,কত বড় সাপ।ওমাগো!অামি দেখেই ভয় পেয়ে গেছি,তাই তাড়াতাড়ি চলে এলাম।
--সাপ!!কোথায়?দরজার ফাঁক দিয়ে যদি ওঘরে চলে যায়?অাপনি সাপটাকে কিছু দিয়ে বাড়ি দিয়ে মেরে ফেলতে পারলেন না?যদি কাউকে কামড় দেয়?
ব্যতিব্যস্ত হয়ে বললাম অামি।
--না...অাসলে,
ওটা তো কাউকে কামড় দিতে পারবেনা।দরজার ফাঁক দিয়ে কিভাবে বের হবে?ওটা তো নড়তে পারছে না,কিন্তু কত বড় সা....
--নড়তে পারছে না?তার মানে অাপনি মেরে ফেলেছেন সাপটাকে?অাপনি কি পাগল?জানেন না অনেক সময় জ্বীনেরা সাপের রূপ ধারণ করে চলে অাসে।তাই সাপ মারার অাগে তিনবার বলতে হয় জ্বীন হলে চলে যেতে!এটা হাদিসে অাছে।এখন যদি কোনও সমস্যা হয়?উফফ.!
--না,অামিনা....
অাসলে অামি তো......
অামি তো সাপকে কিছু দিয়ে বাড়ি মারি নি।
কাঁচুমাচু হয়ে বললেন উনি।
--তাহলে?কি বলছেন এসব অাবল তাবল?সাপ দেখে মাথা কাজ করছে না?অাপনি এত ভীতু!
--না না,অাগে তো কথাটা শুনবে তুমি।হটাৎ অামার ঘুম ভেঙে গেলো,পাশে দেখি তুমি নেই।ওটা শুয়ে অাছে,তো অামি....
--ওটা!!মানে সাপ?তার মানে ওটা জ্বীন ই ছিলো,ইন্নালিল্লাহ.....
--এই,ওয়াশরুমে কেন বলছ এসব?গুনাহ হলে?
--অাপনি জ্বিনটাকে কেন মারলেন অাগে সেটা বলুন!যদি গুনাহ হয়?কেন এ.....
--অারে অারে অাহলিয়া,শুনবে তো!
অামি সাপটাকে কিভাবে মারব বলো?সাপটা তো দেখ,এই যে,এই....
উনি ফোন থেকে অামাকে একটা সাপের ছবি দেখালেন।
অন্য সময় হলে অামার মাঝে কেমন প্রতিক্রিয়া হতো কে জানে,কিন্তু এই মুহূর্তে কপট রাগ নিয়ে অামি উনার দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে অাছি।
উনি কয়েক সেকেন্ড অামার দিকে তাকিয়ে থেকে চোখ নামিয়ে নিলেন।কাঁচুমাচু হয়ে বললেন,
--তুমি রাগ করেছ?অামি তো মিথ্যা বলিনি বলো।সত্যি সত্যিই দেখো কত বড় সাপ,এটা দেখেই তো গলা শুকিয়ে গেছে।তাই ভয়ে চলে এসেছি।অাসলে অামি...
--ভয়ে চলে এসেছেন?
--না না,ভয় কেন পাব?অামি কি ভীতু নাকি?হাহ!
অামি তো এসেছি, একটা সুন্নাহ পালন করতে।একই পাত্র থেকে পানি নিয়ে গোসল করা সুন্নাহ তো।
--তো অামি বের হওয়ার পর অাপনি গোসল করলেও তো একই পাত্র ই থাকতো,তাইনা? এত নাটক করে অাসার কি দরকার ছিল?তাছাড়া এটাচ বাথরুম।অাসার সময় কোন পা দিয়ে এসেছেন কে জানে?দুঅাও পড়েন নাই।
ভ্রু নাচিয়ে বললাম অামি।
--অাচ্ছা,দাঁড়াও বের হয়ে যাই....
বলেই প্রথমে ডান পা,পরে বাম পা দিয়ে উনি বের হয়ে,
"গুফরনাকা অালহামদুলিল্লাহিল্লাযী অাযহাবা অান্নিল অাযা ওয়া অা'ফানি" পড়লেন।তারপর,
"বিসমিল্লাহি অাল্লাহুম্মা ইন্নি অাউযুবিকা মিনাল খুবুছি,ওয়াল খবাইছ" পড়ে প্রথমে বাম পা,পরে ডান পা দিয়ে প্রবেশ করলেন।
--এবার হয়েছে অাহলিয়া?
--অাপনি বের হয়েও অাবার এলেন কেন?
--না,ভাবলাম অারকি,এসেই যখন পরেছি গোসলটা করেই যাই,
দাঁত কেলিয়ে হাসছেন উনি।অামার প্রচণ্ড হাসি পেলেও অামি ভ্রু কুঁচকে রেখেছিলাম।অামার তাকানো দেখেই সম্ভবত উনি ঢোক গিললেন।চোখগুলো নিচু করে মুখ কালো করে,
--ঠিক অাছে,চলে যাই
বলে উনি পিছন ফিরে তাকালেন।এবার অামি হেসে ফেললাম।হাসতে হাসতে এবার অামার চোখে পানি চলে অাসার উপক্রম।কোথায় যেন পড়েছিলাম,হুজুররা অনেক রোমান্টিক হয়,অাসলেই তাই।
…………………………………
…………………………………
…………………………………
তাহাজ্জুদের পর উনি অামার পড়া নিলেন,উস্তাযার কাছ থেকে তাজউইদ সঠিকভাবে পড়ছি কিনা দেখলেন।তারপর ফজর পড়ে অামার কোলে মাথা রেখে সূরা ইয়াসিনের প্রথম দশ অায়াত অর্থসহ নিজেও মুখস্থ করলেন,অামাকেও মুখে মুখে পড়িয়ে মুখস্থ করিয়ে নিলেন।
তারপর রুটিন মত ঘর ঝাড়ু দিয়ে অামায় নাস্তা বানাতে সাহায্য করছিলেন,এমন সময়ে মায়ের চিৎকার চেঁচামেচিতে অামরা চমকে ওই ঘরে যাই।
--দেখো রূপা,ভালোয় ভালোয় বলছি,অনেক চাকরি করেছ,অার করার প্রয়োজন নেই।তুমি দেখছি অামার ছেলেটাকে দাইয়্যুস বানিয়ে ছাড়বে।কাল রাতে এত বোঝানো সত্ত্বেও তুমি এখন সেজেগুঁজে অফিস যাচ্ছ?জানো মুখ ঢাকা ফরজ যে?তোমার এই সাজগোঁজের জন্য কত ছেলের চোখের যিনাহ হতে পারে,জানো?!
--মুখ ঢাকা ফরজ!! এসব উদ্ভট কথা কোথায় পান অাপনি?এই অামিনা মেয়েটার সাথে থেকে থেকে অাপনার মাথা গেছে বুঝলেন?অাপনার ছেলে নিজে তো জঙ্গি,মেয়ে একটাকে কোথা থেকে খুঁজে এনেছে,সে অারেক জঙ্গি,অসামাজিক একটা মেয়ে।এখন তারা অাপনার মাথা খাচ্ছে।
--মাথা খাচ্ছে না বরং ওরা অামাকে সিরাতুল মুস্তাক্বিম চেনাচ্ছে।মুখ ঢাকা ফরজ বুঝেছ?এটা কুরঅানে অাছে।অামিনা,সেদিন না তালিমে এটা বলেছিল।তুমি একটু বলো তো রূপাকে।কুরঅানে কোথায় কোথায় মুখ ঢাকা ফরজ যে এটা অাছে?
অামি কাঁচুমাচু হয়ে বললাম,
--অাপা,সূরা অাহযাবে.....
--শাট অাপ ইউ ইলিটারেট গার্ল।কয়বার বলব অামাকে অাপা না বলতে?অার সূরা ক্বিরাত কি অামাকে তোমার কাছ থেকে শেখা লাগবে নাকি?লিসেন,অামি যথেষ্ট জানি ইসলাম নিয়ে,অার সেটা মানি ও।তুমি নিজের চরকায় তেল দাও,বুঝেছ?কোথা থেকে তুলে এনেছে কে জানে?ম্যানার বলতে কিছু নেই এই মেয়ের মাঝে।অারে এর চেয়ে তো পাশের বাড়ির.....
ঠাশ!!
হটাৎ কি হলো কে জানে!অামার শ্বাশুড়ি মা বড় জায়ের মুখে চড় মেরে দিলেন।এতক্ষণ শায়খ চোখ নিচু করে ছিলেন,এই প্রথম চোখ তুলে তাকালেন।ঘটনা বুঝেই অামার শায়খ তড়িঘড়ি করে এসে মাকে সামলালেন।চেয়ারে বসিয়ে গ্লাসে পানি ঢেলে খাওয়ালেন।বড় জা কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে দাড়িয়ে ছিলেন।পরে রাগত স্বরে মাকে এসে বললেন,
--অাপনি হয়ত ভুলে গেছেন দেশে অাইন অাছে।অামি অাজকেই গৃহবধূ নির্যাতনের জন্য মামলা দায়ের করব।অামার জীবন,অামি কিভাবে কাটাবো অামার ইচ্ছা!অাপনি বলার কে?
কদিন অাগেও তো শবে বরাত শবে কদর ছাড়া নামায পড়তেন না।এখন খুবই সূফী সাজছেন দেখি!অবশ্য এখন তো বয়স হয়েছে তাইনা?এক পা কবরে,অারেক পা মাটিতে,তাই এত ধর্মকর্ম করছেন।অামার সময় হলে অামিও করব,অাপনাদের শিখিয়ে দেওয়া লাগবে না।
অার এই মিডল ক্লাস মেয়েটার জন্য অামার গায়ে হাত তুললেন না?এর বদলা তো অামি নিব ই।মনে রাখবেন,সংসারের অর্ধেক খরচ কিন্তু অামার অার অাপনার বড় ছেলের পকেট থেকেই অাসে।
বলে গটগট করে হেঁটে চলে গেলেন তিনি।
অামার শায়খ মাকে তেলে বেগুণে জ্বলে উঠতে দেখে সবর করতে বললেন।বলতে থাকলেন,
--মা,তুমি উনার মুখে অাঘাত করলে কেন?এটা গুনাহ না?
--রাগে করছি,বেটা,রাগে করছি।এখন কি করতে হবে বল?ওর পা ধরে মাফ চাইবো?
--এখনও রেগে অাছ তুমি?মা!
জানো হাদিসে কি এসেছে?প্রকৃত বীরপুরুষ সে,যে রাগের সময় নিজেকে কন্ট্রোল করে।
--ওখানে পুরুষের কথা বলছে,অামি পুরুষ না।
মায়ের কথায় ফিক করে হেসে দিলেন উনি।মায়ের হাত জড়িয়ে বললেন,
--তুমি হলে বীর নারী, বুঝলে?এখন শুনো,ভাবির গায়ে হাত তুললে কেন?
--ও তোর বউয়ের সাথে এভাবে কথা বলছিল কেন?
--তাতে কি হয়েছে?অামিনাকে তো তুমি ভালবাসো না,ছেলের বউ হিসেবে মানো না,তুমিই তো বলেছিলে।তাহলে ওর সাথে খারাপ ব্যবহার করলে কি এমন হবে?
--থাপ্পড় কি এখন তুই খাবি?কখন কি বলেছি এখনও সেসব নিয়ে পড়ে অাছিস কেন?এই মেয়ে,এদিকে এসো,কোন কোন সূরায় মুখ ঢাকা নিয়ে বলেছে অামার বেটা সেগুলো বলবে,তুমি খাতা কলম নাও।তাড়াতাড়ি করো,লিখো এবার।
--
১.সূরা অাহযাবের ৫৯ নং অায়াতে অাছে,
"হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণকে,কন্যা
গণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে
বলুন,তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দাংশ
নিজদের উপর টেনে দেয়,এতে তাদের
চেনা সহজ হবে,ফলে তাদের উত্যক্ত করা
হবে না,আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু!"
এই আয়াতে স্পষ্ট ভাবে চেহারার পর্দার
কথা বলা হয়েছে,
'চাদরের কিয়দাংশ নিজের উপর টেনে
দেয়'
বাক্যটিই প্রমান করে এখানে
গায়ের চাদরের কিছু অংশ মুখের উপর
টেনে দেয়ার কথা বলা হয়েছে......
২.সূরা অান নূরের ৩১ নং অায়াতে অাছে,
".... তারা যেন যা সাধারনত প্রকাশ্যমান
তা ব্যতীত তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না
করে..."
এই আয়াতটির ভুল ব্যাখ্যা করে অনেকে মুখ
খোলা রাখার ব্যাপারে যুক্তি
দেখান,কারন এখানে বলা হয়েছে যা
সাধারনত প্রকাশমান!
সুতরাং তারা চেহারা কে প্রকাশ্য বস্তু
ধরে নিয়েছে!
অথচ যা দৃশ্যত প্রকাশমান বলতে নারীর
দৈর্ঘ ও খর্বতা,কৃশতা ও স্থুলতা,বাতাসের
দোলে বোরকার নিচের পোশাক বা
দেহের কোন অংশ দেখা যাওয়া কে
বুঝানো হয়েছে,
অর্থাৎ নারীর সৌন্দর্যের কোন কিছু অনিচ্ছায় প্রকাশিত হওয়ার বিষয়টি পর্দার হুকুম থেকে বিযোজ্য।
সেজন্যই উক্ত আয়াতে আল্লাহ 'নারী
নিজে যা প্রকাশ করে' কথাটি বলেননি।বলেছেন, যে সৌন্দর্য নারীর স্বেচ্ছা
সম্পাদন ব্যতীত এমনিতেই প্রকাশিত হয়ে যায়।
সুতরাং হাত,মুখ,পা এগুলোও পর্দার
অন্তর্ভুক্ত..
৩.সূরা নূরের ৩০ নং অায়াতে অাছে,
"মুমিনদের বলুন,তারা যেন তাদের দৃষ্টি কে
নত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হিফাযত
করে,এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা
আছে,নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা
অবহিত আছেন।"
প্রতিটি বিবেকবান ব্যক্তিই বুঝবে এই আয়াতে কি বুঝানো হয়েছে..
নারীর চেহারা পর্দামুক্ত রাখার অর্থই হল তারা যেন পুরুষদেরকে তাদের দেখার
প্রতি আমন্ত্রন জানাচ্ছে।
৪.সূরা নূরের ৩১ নং অায়াতে অাছে,
"ঈমানদার নারীদের বলুন,তারা যেন
তাদের দৃষ্টি কে নত রাখে এবং তাদের
লজ্জাস্থানের হিফাযত করে,এবং
সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে।"
প্রথমে পুরুষদের দৃষ্টি নত রাখতে বলা হয়েছে,পরবর্তী আয়াতেই নারীর সৌন্দর্য
প্রদর্শন করতে নিষেধ করা হয়েছে...
মানে কি দাঁড়াল?
আপনি সৌন্দর্য প্রদর্শন করলে পুরুষ রা তাকাবেই,তাই নারীর পর্দা পুরুষদেরকে তাদের দৃষ্টি অবনত রাখতে সাহায্য করবে...
৫.এবং সূরা নূরে অারও অাছে,
"তারা যেন তাদের গোপন সাজসজ্জা
প্রকাশের জন্য জোরে পদচারণা না করে।"
নারীর জন্য পায়েল বা নুপুরের শব্দ নিয়ে ঘর থেকে বের হওয়া হারাম, নুপুরের রিনিঝিনি শব্দ পুরুষের মনে
ফিতনার উদ্রেগ ঘটাতে পারে, নারীর জন্য যেহেতু শব্দ তোলে এমন কিছু
পরিধান করার বৈধতা টুকুও নেই,
তাহলে চেহারা খোলা রাখা বৈধ হয় কিভাবে?
৬.সূরা অাহযাবের ৩৩ নং অায়াতে অাছে,
"তোমরা গৃহাভ্যন্তরে অবস্থান
করবে,মূর্খতা যুগের অনুরূপ নিজেদেরকে
প্রদর্শন করবেনা....."
যদিও জাহিলী যুগের নারীরা অধুনা বিশ্বের নারীদের মত বাহু,কাঁধ,বক্ষ, পিঠ,উরু উন্মুক্ত করে চলত না,
তারা কেবল চেহারা খোলা রাখত,বড়জোর চুল বের করে চলত।
তদুপরি অজ্ঞতার যুগের অধিকাংশ নারীই চেহারা পর্দাবৃত রাখত,সেকালের কাব্য সাহিত্য থেকে এমনটিই
জানা যায়।
এরপরও আল্লাহ ইরশাদ করেন 'অজ্ঞতা
যুগের অনুরূপ নিজেদের প্রদর্শন করবে না'।
৭.সূরা অাহযাবের ৫৩ নং অায়াতে অাছে,
"তোমরা তার (নবী) পত্নীগণের কাছে কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে,
এটা তোমাদের অন্তরের জন্য এবং তাদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্রতার কারন!"
(সূরা আহযাবঃ৫৩)
আয়াত টি চেহারার পর্দার আবশ্যিকতার ব্যাপারে সুস্পষ্ট দলিল।
এখানে নবী পত্নীদের সম্মোধন করা হলেও তা উম্মতের জন্য ব্যাপকভাবে প্রযোজ্য........
লিখা শেষ করে খাতাটা বাড়িয়ে দিলাম মাকে।মা হটাৎই শায়খকে বলে উঠলেন,
--বেটা,অামায় এক জোড়া হাত মোজা অার এক জোড়া পায়ের মোজা এনে দিবি বেতন পেলে?
অামার শায়খ চমকে মায়ের দিকে তাকালেন।অামি জানি অামার শায়খ এখন কেঁদে ফেলবেন।মায়ের এমন বদলে যাওয়া রূপ তো তিনি অাগে দেখেন নি।
ইনশাআল্লাহ চলবে........

Nov 8, 2018

অসাধারন স্বামী ও স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প পর্ব - ১১ (ইসলামিক জীবন)




পর্ব এগারো....
বেলা তিনটা করে মাকে সাথে নিয়ে গেলাম তালিমে।মাকে রাজি করাতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি অামার।যখন নির্দিষ্ট বাড়িতে পৌঁছালাম,অামার গলা শুকিয়ে যাচ্ছিলো,হার্টবিট বেড়ে যাচ্ছিলো,এক ধরণের অজানা অাতঙ্ক হচ্ছিলো।বরাবরই শুনে এসেছি এইসব তালিমে জাল,বানোয়াট,বিদঅাতি মাসঅালার শিক্ষা দেয়,তবুও ভরসা,শায়খ বলেছেন এই তালিম টা নির্ভরযোগ্য। পাশাপাশি তিন মেয়ে সহ মা অালিমা,অারেক মেয়ে মিশকাতে পড়ছে,বাবা মুয়াজ্জিন,গড়মিল থাকার কথা না।অাল্লাহর নাম নিয়ে দরজায় নক করলাম।পরপর তিনবার নক করতেই খুলে গেলো।অাপাদমস্তক ঢাকা একজন এসে সালাম দিয়ে মুসাফাহা করলেন,ভেতরে গিয়ে বসতেই দেখি প্রায় জনা ত্রিশেক নারী,বেশীরভাগ ই অামার বয়সী।এটা ভেবে ভালো লাগলো যে,তরুণ প্রজন্মের একটা অংশ এখনও অামার রব্বের হিদায়াহর ছায়ায় অাছে।অালহামদুলিল্লাহ,সুম্মা অালহামদুলিল্লাহ!!
নিকাবটা খুলবো কিনা তা নিয়ে একটু ইতস্তত করছিলাম।এগিয়ে এলেন সেই অান্টি টি।নিজের নিকাব খুলে অামায়ও নিকাব খুলতে বললেন।গ্লাসে করে পানি এগিয়ে দিলেন পরম অাদরে,মুখে প্রশস্ত এক হাসি,ঠিক অামার শায়খের মতন।এক মুহূর্ত ভাবলাম,যারা একটুখানি দ্বীনের পথে চলে,তাদের দেখলেই বুঝি মন ভরে যায়!অামার শায়খ,এই যে পঞ্চাশোর্ধ অান্টি,তালিমের বাকি মানুষগুলো।একরাশ মুগ্ধতা ছেয়ে রেখেছিলো অামায়।
সেদিনের অালোচ্য বিষয় ছিলো "নামাযের গুরুত্ব,স্বলাত অাদায়ে উদাসীনতা অার বে নামাযীর শাস্তি"।অামি অবাক হচ্ছিলাম অান্টির উপস্থাপনা দেখে।নামাযের গুরুত্ব বলতে বলতে তার চোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠছিলো,বে নামাযীর শাস্তি বলার সময় হুহু করে কেঁদে উঠছিলেন তিনি।অাশপাশের সবার চোখ ভেজা,এমনকি অামার শাশুড়ি মায়েরও।ওই অান্টিটা যখন বলছিলেন,
"তোমরা কিছু করো না অার না করো,নামায অাদায় করো।সময় বয়ে যায়,কে কখন চলে যাব অামাদের অাসল বাড়িতে।তখন অামাদের ঝুলিতে একমাত্র অামল ছাড়া কিছু তো থাকবেনা।একমাত্র নামাযই অামাদেরকে হিসাব নিকাশের পর সাকারে যাওয়া থেকে দূরে রাখতে পারবে........."
অামি মন্ত্র মুগ্ধ হয়ে শুনছিলাম।তার বাচনভঙ্গি এমন ছিলো যে অামার অন্তর কেঁপে উঠছিলো।সম্বিৎ ফিরলো অাসরের অাজান শুরু হওয়ার সময়।একসাথে সবাই অাযানের উত্তর দিলাম।অাযান শেষে দুঅা করলাম।তারপর সবাই হাত তুলে মোনাজাতে দুঅা করলাম।মোনাজাতের পর সবাইকে দুটো করে খেঁজুর অার একগ্লাস ঠান্ডা পানি খেতে দেওয়া হলো।ফেরার সময় খেয়াল করলাম মা যিকর করছেন,বিভ্রান্তের মতন এদিক ওদিক তাকাচ্ছেন।সারা রাস্তা অামার সাথে কথা বলেন নি।ঘরে গিয়ে নামায পড়ে কাঁদলেন,অনেক কাঁদলেন।মনের ভেতর তখন কেমন অনুভূতি হচ্ছিলো বলে বোঝাতে পারবো না,এটাই ছিলো অামার উপর,অামার শাশুড়ি মায়ের উপর অামার রব্বে কারীমের নিয়ামত,
সুবহানআল্লাহ!অালহামদুলিল্লাহ!অাল্লাহু অাকবার!!!
যতই দিন যাচ্ছিলো,মা একটু একটু করে দ্বীনের পথে অাসছিলেন,বাসায় নামাযের সময়সূচীর চিরস্থায়ী ক্যালেন্ডার থাকা সত্ত্বেও মা একটু পরপর এসে জিজ্ঞেস করতেন,
"এই মেয়ে,দেখো তো তোমার মোবাইলে,নামাযের ওয়াক্ত হলো কিনা"।
অারও খেয়াল করলাম মা চাশতের,ইশরাকের নামাযও পড়ছেন। সালাতুত তাসবীহ অার তাহাজ্জুদ তো একদমই ছাড়ছেন না।ওয়াক্ত হওয়ার পরও অামি যদি একটু বিলম্ব করতাম নামায পড়তে,মা কড়া গলায় ধমকাতেন।বলতেন,
"কি হ্যাঁ?নামায পড়বে না নাকি?ফিরিশতাদেরকে বলিও না যে সংসারের কাজ সামলাতে গিয়ে নামায পড়তে পারোনি।অবশ্য বললেও লাভ হবে না।তাড়াতাড়ি যাও,নামায পড়ো।পরে হাজার অামল থাকলেও যদি এই নামাযের জন্য তোমাকে সাকারে যেতে হয়,তাহলে কিন্তু অামি বেহেশতের কোনও হুরপরির সাথে অামার ছেলের বিয়ে দিয়ে দিব।"
মায়ের ধমক শুনে অামি হাসতাম,দ্বীনের পথে প্রথম প্রথম এলে চল্লিশোর্ধ কেউ ও যে ছয় বছরের বাচ্চা মেয়ের মতন শিশু হয়ে যায়,তা অামি স্বচক্ষে এই প্রথমবারের মতন দেখলাম।মাঝেমাঝে উনার অামল করা দেখলে অামারই হিংসা হতো।প্রতিযোগীতা করে অামল শুরু করেছিলাম মায়ের সাথে।সেই অনুভূতিগুলো অন্যরকম,একদম অন্যরকম।হটাৎই একদিন তালিমে "স্ত্রীর অধিকার,স্ত্রীর কর্তব্য" নিয়ে অালোচনা হচ্ছিলো।তীব্রভাবে ঝাঁকি খেলাম যখন অান্টি বললেন,
"জাহেলিয়াত!জাহেলিয়াত!!এটা সম্পূর্ণ জাহেলিয়াত!দেওর ভাবির কাছে মৃত্যুর সমান হওয়া সত্ত্বেও মানুষ ভাবিকে দেওরের মায়ের সমান বলে তূলনা করে।দেওর ভাবির মাঝে কোনও পর্দা নেই,যা তা অবস্থা।তার উপর সমাজের একটা ধারণা হয়েছে বউ শ্বশুড়-শাশুড়ির সেবা করবে,একটু এদিক সেদিক হলে সংসারে অশান্তি থেকে শুরু করে তালাক পর্যন্ত হয়ে যাচ্ছে,যেন এটা ফরজ ওয়াজিব কিছু।অাহারে মায়েরা শুনুন,ছেলের বউ অাপনাদের জন্য যা কিছু করে,তা একপ্রকার সাদকাহ অার মানবিকতা।এটার জন্য ওরা কিন্তু বাধ্য না।অথচ সমাজের নীতি হলো এমন,শ্বশুড় শ্বাশুড়ির সেবা করবে ছেলের বউয়েরা,অার নিজের মা বাবা চুলোয়া যাক,তাতে কার কি"......"
অামি খেয়াল করলাম মা সবটুকু কথা যেন গোগ্রাসে গিলছেন।সারা পথ গম্ভীর ছিলেন।অামার শায়খের একটা স্বভাব হলো তিনি এসে অাগে মায়ের খোঁজ নেন।মায়ের জন্য এটা সেটা নিয়ে অাসেন।মায়ের হাই বিপি,পাশাপাশি ইদানিং মায়ের ডায়াবেটিস সহ অারও এই সেই অসুস্থতা দেখা দিচ্ছে।প্রতিদিন গিয়ে শায়খ চেক করে অাসেন মায়ের ওষুধ খাওয়া ঠিকঠাক হচ্ছে কিনা।সেদিন শায়খ অাসার অাধঘন্টা অাগ থেকেই মা ছটফট করছিলেন,বারবার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছিলেন।শায়খ ফেরার পরপরই মা উনাকে জিজ্ঞেস করলেন,
--বেটা তুই তো ইসলাম নিয়ে পড়িস অনেক।তুই জানবি নিশ্চয়।শ্বশুড় শাশুড়ির সেবা করা নাকি ফরজ না?
--হ্যাঁ,না ই তো।হাদিসে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লহু অালাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে অভিশাপ দিয়েছেন,যার জীবদ্দশায় মা-বাবা কিংবা কেবলমাত্র একজন বেঁচে থাকা সত্ত্বেও যে তাদের সেবা না করে জাহান্নামে যাবে।পাশাপাশি একবার এক লোক,রসূলুল্লাহর কাছে জিহাদে যাওয়ার অনুমতি চাইলে তিনি ওই ব্যাক্তিকে ঘরে গিয়ে নিজের বাবা মায়ের সেবা করতে বলেছেন।তুমি খেয়াল করো,একবারও কিন্তু শ্বশুড় শাশুড়ির কথা বলেন নি।অাসলে মা যার যার বাবা মায়ের খিদমাহ করার দায়িত্ব তার তার।
--তাহলে এই মেয়েটা অামার খিদমত করে কেন?
অামার দিকে ইঙ্গিত করে বললেন মা।
--অামিনা?ও তো তোমাকে ভালবেসে করে,বেশী বেশী নেকি কামাই করে জান্নাতে যাওয়ার জন্য করে।
--কিন্তু ও যদি ওর বাবা মায়ের খিদমত না করে,তাহলে ওর গুনাহ হবে না?
--উঁ,হতে পারে।
--তখন ফিরিশতারা কারণ জিজ্ঞেস করলে নিশ্চয় ও বলবে শাশুড়ির সেবা করতে গিয়ে বাবা মায়ের সেবা করতে পারেনি।
--হ্যাঁ,এটাও বলতে পারে।
--তাহলে শুন,একটা কাজ কর।টেবিল থেকে খাতাটা নে তো।অামি বলছি তুই লিখা শুরু কর।
১.প্রতি মাসে বাবা মায়ের কাছে বড়জোর দুইদিনের জন্য যেতে পারবে।অবশ্য অসুখ বা কোনও সমস্যা থাকলে অারও বেশিদিন বাবার বাড়িতে থাকতে পারে,সমস্যা নেই।
২.প্রতিদিন ফোনে বাবা মায়ের খোঁজখবর নিতে হবে।
৩.প্রতি মাসে তাকে নির্দিষ্ট কিছু টাকা দেওয়া হবে,সেটা দিয়ে বাবা মায়ের জন্য এটা সেটা হাদিয়া কিনে নিবে।
৪.বাবা মায়ের অসুস্থতার খবর শুনলে যত বড় সমস্যার মাঝেই থাকুক ও,বাবা মায়ের কাছে গিয়ে খিদমত করতে হবে।
৫.বাবা মাকে কখনও অসম্মান করে কিছু বলতে পারবেনা।
৬.প্রতিদিন তাদের জন্য দুঅা করতে হবে।
৭.উঁ....মনে পড়ছেনা অার।অাপাতত এগুলো থাক।এতটুকু লিখে নিচে লিখ "এসব শর্ত অামি সজ্ঞানে মেনে নিলাম।",তারপর নিচে ওর নাম লিখ,দুইপাশে সাক্ষীর নাম হিসেবে অামার অার তোর নাম লিখ।
লিখা হলে খাতাটা বাড়িয়ে দিয়ে মা অামার সাক্ষর নিলেন,শায়খের সাক্ষর নিলেন,নিজে সাক্ষর করলেন।তারপর খাতা হতে পৃষ্ঠাটা ছিঁড়ে ভাজ করতে করতে বললেন,
--শুনো মেয়ে,তুমি অাবার বলিও না অামার জন্য বাবা মায়ের খিদমত করতে পারো নি।হাশরের দিন কিন্তু তুমি অামাকে কোনওভাবে ফাঁসাতে পারবেনা।অাগে নিজের জান্নাত ঠিক করো যাও,বাবা মায়ের খিদমত করো অাগে,অামার খিদমত করার জন্য অামার পাঁচ ছেলেই কাফি।
মায়ের কাজকর্ম দেখে শায়খ মিটিমিটি হাসছেন,অামার চোখ ঝাপ্সা হয়ে অাসছিলো,মন চাচ্ছিলো গিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরে কিছুক্ষণ কাঁদি।কিন্তু কি একটা জড়তা কাজ করছিলো কে জানে,অামি অন্যদিকে তাকিয়ে ছিলাম।মা সালাম দিয়ে চলে গেলেন।অামি তখনও ধাতস্থ হতে পারছিলাম না।শায়খ পরম যত্নে অামায় কাছে টেনে নিলেন।থুতনীটা একটু উঁচু করে ধরে বললেন,
--তোমার চোখে হটাৎ হটাৎ পানি কেন অাসে অাহলিয়া?এখন তো তোমার খুশি হওয়া উচিৎ,এটা তো তোমারই প্রচেষ্টার ফল।তুমিই তো....
--না না!এটা অামার প্রচেষ্টার ফল না।বরং এটা তো অামার প্রতি অামার রব্বের করুণা,অালহামদুলিল্লাহ!
শায়খ জোড়ে চিৎকার দিয়ে বলে উঠলেন,
--অাল্লাহু অাকবার!অামিনা!তুমি জানোনা অামি কত সৌভাগ্যবান।অামার রব্ব শুধু অামায় চক্ষু শীতলকারী স্ত্রী ই দেননি,বরং অামার পরিবারে রহমত ঢেলে দিয়েছেন।মনে হয় একটুকরো জান্নাত দিয়েছেন অাল্লাহ তোমায় দেওয়ার মাধ্যমে।অালহামদুলিল্লাহ!!সুম্মা অালহামদুলিল্লাহ!
অামি লজ্জা পেয়ে উনার বুকে মুখ লুকালাম।উনি নন,বরং অামিই তো সৌভাগ্যবতী,যে কিনা এত পরহেজগার কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়েছি।উনি অাচমকা বলে উঠলেন,
--এই অামিনা,উঠো তো,খিদা পেয়েছে অামার।অামি ভাত বাড়ি,তুমি গ্লাসে পানি ঢালো,দুটো খেঁজুর বের করে নাও।তাড়াতাড়ি করো।
অামি মৃদু হেসে উঠে পড়লাম,এটা তো সেই প্রথম দিন থেকেই রুটিন হয়ে গেছে।একদিন উনি ভাত বাড়বেন,অামি গ্লাসে পানি ঢেলে খেঁজুর নিয়ে অাসবো,অারেকদিন অামি ভাত বাড়বো,উনি গ্লাসে পানি ঢালা অার খেঁজুর নিয়ে অাসার কাজ করবেন।খাওয়া শেষে একদিন অামি প্লেট বাটি ধুবো,উনি বিছানা করবেন,অারেকদিন উনি ধোয়ার কাজ করবেন,অামি বিছানা করবো।এখন অামরা প্রায়ই একই প্লেটে খাই,একই গ্লাসের একই পাশে মুখ লাগিয়ে পানি খাই।রসূলুল্লাহকে অনুসরণ করার ক্ষেত্রে তিনি সবসময়ই এগিয়ে।
ইনশাঅাল্লাহ চলবে.....

Nov 7, 2018

স্বামী ও স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প পর্ব - ১০



পর্ব দশ.....
--বুঝলে অামিনা,এই তাজউইদ জিনিস টা কিন্তু খুবই মজার একটা বিষয়।প্রথমে দেখ,'মাখরাজ,সিফাতুল হুরুফ বা হারফের বৈশিষ্ট্য,নুন সাকিন,তানউইন,মিম সাকিন,উচ্চারণের পদ্ধতি,মাদ,ওয়াকফ,ইবতিদা'
মাত্র এই অল্প কয়টা পার্ট নিয়েই কিন্তু তাজউইদ গঠিত।কাজেই তাজউইদ শিখতে খুব একটা কষ্ট হবেনা ইনশাআল্লাহ!তাহলে শুরু করি?
--করুন।
--আরবী শুদ্ধ উচ্চারণের জন্য মাখরাজের গুরুত্বের শেষ নেই।মাখরাজ হলো অারবী শব্দগুলো উচ্চারণের স্থান।যেমন অামরা বাংলা বর্ণমালার সাতটি উচ্চারণ স্থল অাছে,তেমনই অারবী বর্ণমালার সতের টি উচ্চারণস্থান অাছে।
--বাংলা বর্ণমালারও উচ্চারণ স্থল অাছে!!!!
--হ্যাঁ,থাকবে না কেন?তুমিই দেখো না,"ম" বর্ণটা উচ্চারন করতে তোমায় যেমন দুই ঠোঁটের সাহায্য নেওয়া লাগে,"ক" বর্ণ উচ্চারণ করতেও কি দুই ঠোঁটের প্রয়োজন হয়?
--না,তা না।কিন্তু.......
অাচ্ছা সাতটা স্থান কি কি,একটু বলুন তো!
--বলতে গেলে তো দেরি হয়ে যাবে অামিনা।পরে বলবো নাহয়,অাগে মাখরাজ গুলো সম্পর্কে শুনো।
--না না,মাথায় একটা চিন্তা ঘুরছে।অাগে ওটা সমাধান করতে হবে।
--কি চিন্তা?কিসের সমাধান?
--অাসলে,অারবী বর্ণমালা সবগুলোই তো বাংলায় উচ্চারণ করা যায়।তাহলে বাংলা বর্ণমালা উচ্চারণের স্থান সাতটি,কিন্তু অারবী বর্ণমালা উচ্চারণের স্থান সতেরো টি...........
বিষয়টা কেমন এলোমেলো লাগছে না?যেমন ধরুন 'বা(ب)' এর কথা।বাংলায় ব এর সাথে অাকার যোগ করলেই তো অারবীতে বা(ب) উচ্চারিত হয়।অাবার ধরুন "হা(ح)" এর কথা,বাংলায় হ এর সাথে অাকার যোগ করলেই তো অারবীতে হা(ح) এর উচ্চারণ হবে।
অর্থাৎ অারবী সবগুলো হরফের উচ্চারণ তো বাংলা হরফের দ্বারা করা যায়,তাইনা?তাহলে বাকি দশটি অতিরিক্ত স্থানের কি দরকার উচ্চারণের জন্য?
--এটাই তো পয়েন্ট অামিনা।তুমি দেখো,অামি কিন্তু প্রতিবারই বলছি "তাজউইদ" কিন্তু বাংলায় পড়তে গেলে তুমি সবজায়গায় এই শব্দটাকে পাবে 'তাজবীদ' হিসেবে।এখন বলো,কোনটা সঠিক হওয়া উচিৎ?
--অবশ্যই তাজবীদ।
--না,তাজউইদ সঠিক হবে।কারণ অামরা ছোটবেলায় ওয়াও(وِ) যের 'বি(بِ)' শিখি,যেটার অাসল উচ্চারণ হবে ওয়াও(و) যের 'উই(وِ)'।
বুঝলে?পাশাপাশি দেখবে,অারবীতে দেখবে 'জিম(ج)-যাল(ذ)-যোয়া(ظ)-ঝা(ز)' শব্দগুলোকে অামরা 'জ' এর মতন করে উচ্চারণ করি।অর্থাৎ সবগুলোকে একই রকম করে উচ্চারণ করি।কিন্তু এদের উচ্চারণ অালাদা অালাদা।অামি একটু অাগেই তোমাকে দেখিয়েছি সামান্য একটুখানি উচ্চারণের জন্য অায়াতের অর্থ কিভাবে বদলে যায়,দেখিয়েছি না?
--হ্যাঁ,কিন্তু বাজারে যে বাংলায় অনুবাদ করা কুরঅান শরীফ গুলো পাওয়া যায়,ওখানেও তো এই হারফগুলোকে একইভাবে উচ্চারণ দেখায়।
--হ্যাঁ,ওটাই তো বলছি।তুমি পড়তে গেলে দেখবে জিমের(ج) উচ্চারণ এক রকম,যাল(ذ) এর উচ্চারণ অারেকরকম।যোয়ার(ظ) উচ্চারণ এক রকম,ঝার(ز)উচ্চারণ অারেক রকম।
কিন্তু বাংলায় খেয়াল করবে,এই হারফগুলোর উচ্চারণ বোঝানোর জন্য "জ" অার "য" ব্যবহৃত হয়।অাবার দেখো,ওয়াও(و) এর উচ্চারণের সমমানের কোনও বাংলা বর্ণ নেই বলে এটার উচ্চারণ বা(ب) এর মতন করা হয়।ক্বফের(ق) উচ্চারণ লিখার সময় যদিও ক এর নিচে ব হসন্ত দিয়ে বুঝিয়ে দেওয়া হয় এই উচ্চারণটা একটু ভিন্ন,তবুও অামরা সাধারণ মানুষ না বুঝে "কাফ(ك)" এর মত উচ্চারণ করে ফেলি।অথচ এই দুইটা হারফের উচ্চারণে বিস্তর পার্থক্য।এই একই অবস্থা তুমি দেখবে অন্যান্য অারবী সমজাতীয় হুরুফের মাঝেও।অাসলে বাংলা শব্দ ভাণ্ডার কানায় কানায় পূর্ণ হলেও অারবী হুরুফ উচ্চারণের সমান উচ্চারণ পূর্ণ বাংলা শব্দ খুব একটা বেশী নেই।এবার বুঝলে মাখরাজ সতেরো টি,কিন্তু বাংলা বর্ণমালার স্থান সাতটি হওয়ার কারণ?
--জ্বি বুঝলাম।কিন্তু হারফ অার অার হুরুফ কি?
--অারবী প্রতিটা বর্ণকে অালাদা অালাদা ভাবে বোঝালে তখন প্রতিটা অালাদা বর্ণকে হারফ বলে,বাংলায় যেটাকে অামরা হরফ বলি অারকি।অার হারফ হলো একের অধিক হরফের সমষ্টি।
--অর্থাৎ হারফ হলো বর্ণ,অার হুরুফ হলো বর্ণমালা,তাইতো?
--ঠিক তাই।এবার এসো সিফাতুল হুরুফ নিয়ে কথা বলি।সিফাত মানে তো জানো ই,গুণ বা বৈশিষ্ট্য।সিফাতুল হুরুফ হচ্ছে হারফগুলোর বৈশিষ্ট্য।এটা ভিন্ন ভিন্ন হারফের উচ্চারণ যাতে একই না হয়,সে দিকটা নিশ্চিত করে।তারপর দেখো,নুন সাকিন অার তানউইনে।
এর অাগে অামি তোমাকে হারকাতের সংজ্ঞা বলি কেমন?বাংলায় যেমন অা-কার(া),ই-কার(ি),দীর্ঘ-ই কার(ী) অাছে।তেমনই অারবী হারফ দ্বারা শব্দ গঠনের জন্য যবর,যের,পেশ অাছে।বাংলায় যদি তুমি বলো 'অম বংলদশ থক' তাহলে কি এটার কোনও অর্থ অাছে?নেই না!
কিন্তু তুমি যখন স্বরচিহ্ন যোগ করে বলবে,
'অামি বাংলাদেশে থাকি' তখন এটা কেবলমাত্র শব্দেই না,অাদর্শ একটি বাক্যেও পরিণত হয়।তেমনভাবেই অারবী বর্ণ 'অালিফ,লাম,হা,মিম,দাল,লাম,হা' একত্রিত করে 'الحمدله' বললে এটা কোনও বাক্য তো দূরে থাক,শব্দই হবে না।কিন্তু যখনই তুমি এই হারফগুলোতে যবর,যের,পেশ,সাকিন যু্ক্ত করবে,তখন এটি "অালহামদুলিল্লাহ" তে পরিণত হবে।যা কেবলমাত্র একটি শব্দ ই না।বরং একটি সফল বাক্যও বটে।এখন দেখো,এক যবর,এক যের অার এক পেশ কে হারকাত বলে।বুঝলে?
অার সাকিন মানে তো জানো ই,জযম।নুন সাকিন মানে হলো সাকিনযুক্ত নুন,বা এমন নুন,যেই নুনে হারকাত নেই।অার তানউইন হলো দুই যবর,দুই যের,এবং দুই পেশ বুঝলে?
--বুঝলাম,তারপর?
--তারপর হলো মিম সাকিন।মিম সাকিনও নুন সাকিনের অনুরূপ। অর্থাৎ সাকিনযুক্ত মিমকেই মিম সাকিন বলে।
এরপর হলো মাদ।মাদ অর্থ টেনে পড়া।একটু অাগে বললাম না,'লা ইলাহা ইল্লাল্লহ' পড়ার সময় 'লা' তে এক অালিফ টান দিতে হবে।তেমনই তুমি দেখবে কুরঅান শরীফে তুমি দেখবে কিছু কিছু স্থানে,কিছু কিছু হুরুফে টান দিতে হচ্ছে।এই টান দেওয়াটা ই হলো মাদ করে পড়া।
--কিন্তু অামি বুঝবো কিভাবে কোথায় কোথায় মাদ করতে হবে?
--এটা তো সোজা।মাদের নির্দিষ্ট তিনটি হারফ অাছে।পাশাপাশি এর কিছু নিয়মও অাছে।অপেক্ষা করো অাহলিয়া,ধীরে ধীরে শিখবে।
--অাচ্ছা,তারপর?
--তারপর অার মাত্র তিনটা টপিক,ওয়াকফ,ইবতিদা অার উচ্চারণের পদ্ধতি।ওয়াকফ মানে হলো থেমে যাওয়া।এর নির্দিষ্ট কিছু চিহ্ন অাছে।অার ইবতিদা মানে হলো শুরু করা।ওয়াকফ করার পর পড়া অাবার শুরু করাটা হলো ইবতিদা।বুঝলে?
--হ্যাঁ বুঝলাম।অার উচ্চারণের পদ্ধতি বলতে?মাখরাজ পড়লেই তো বোঝা যাবে হুরুফের উচ্চারণ সম্পর্কে।
--না অাহলিয়া,বোঝা গেলেও সম্পূর্ণ ভাবে বোঝা যাবেনা।
মাখরাজ হলো কোন হারফ কোন স্থান হতে উচ্চারিত হবে সেই স্থান গুলোর পরিচয়।অার উচ্চারণের পদ্ধতি বলতে অামি বুঝিয়েছি উচ্চারণ গুলো কেমন হবে,হালকা না ভারী,মোটা না চিকন,এইগুলো।
--অাচ্ছা,বুঝলাম তারপর?
--তারপর অার কি?অামি তোমাকে তাজউইদ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দিলাম।এখন তোমার কাছে দুইটা অপশন অাছে।
১.পাশের এলাকায় একটা মহীলা মাদরাসা অাছে সেখানে গিয়ে তাজউইদ সহ কুরঅান তিলাওয়াত শেখা।
২.বাসায় একজন উস্তাযা রেখে শেখা।
তুমি কোনটা করতে চাও?
--মানে টা কি?অাপনি শেখাবেন না?
--না।
--কেন?
প্রশ্ন শুনে শায়খ একপ্রকার চমকে অামার দিকে তাকালেন।
অাসলে কথাটা থমথমে গলায় বলে ফেলেছি।অবশ্য বলতে গিয়ে কণ্ঠটা একটু ধরেও এসেছিল।মনে একরাশ অভিমান জমা হয়েছে।অাসলে সমস্যা টা কোথায়!এই মানুষটা যদি এভাবেই ভালবেসে অামাকে তাজউইদ শেখায় তাহলে কি এমন হবে?চোখ ঝাপসা হয়ে অাসছে।অামার এই এক স্বভাব।পান থেকে চুন খসলেই কষ্ট লাগে,কান্না অাসে।
সম্ভবত অামার এই অবস্থা দেখেই উনি ব্যস্ত হয়ে উঠে দাঁড়ালেন।অামার সামনে এসে হাঁটুগেড়ে বসে হাতগুলো উনার হাতের মুঠোয় পুরে নিলেন।খুব শান্ত কণ্ঠে বললেন,
--অামিনা!তোমার চোখে পানি কেন?অামি কি তোমায় কষ্ট দিয়েছি?
অামি তো তোমার ভালোর জন্যই উস্তাযা কিংবা মাদরাসায় গিয়ে পড়ার কথা বলছি।অামি চাই অামার অাহলিয়া একদম সহীহ ভাবে কুরঅান শিখুক।পাশাপাশি ছোট ছোট সূরা গুলো অাস্তে অাস্তে মুখস্থ করে ফেলুক।বড় সূরা গুলো নাহয় অামরা একসাথে মুখস্থ করবো।
এখন তুমি বলো তো,মাদরাসায় গিয়ে পড়বে?অবশ্য অামার কাছে ঘরে উস্তাযা রেখে শেখাটাকেই ভালো মনে হচ্ছে।
অামি দীর্ঘশ্বাস ফেলে অন্যদিকে তাকালাম।শায়খের কথায় যুক্তি থাকলেও অামার উনার এই সিদ্ধান্ত পছন্দ হয়নি।উনার কাছ থেকেই তো কত সুন্দর করে শিখতে পারতাম!ভালোই তো লাগে এভাবে শিখতে,তারপরও উস্তাযা কেন......!
--বেলা হয়ে যাচ্ছে।অামি উঠি,অামায় নাস্তা বানাতে হবে।
বলে চলে অাসছিলাম।হটাৎ উনি বলে উঠলেন,
--একটা সুখবর অাছে অাহলিয়া।খোঁজ নিয়েছি অামি।অামাদের এলাকাতেও মহীলাদের তালিম হয়,প্রতিদিন হয়।খোঁজ নিয়ে দেখলাম নির্ভরযোগ্য, তুমি গিয়ে দেখতে পারো।
--কোথায় হয়?কারো বাড়িতে?
--হ্যাঁ,অামাদের এলাকায় যে বড় মাসজিদটা অাছে,ওই মাসজিদের মুয়াজ্জিনের বাসায়।সার্বিক তদারকি উনার স্ত্রী ই করেন।উনার স্ত্রী অার চার মেয়ে।এর মাঝে ছোট মেয়েটা মিশকাতে পড়ছে।বাকি তিনজনই অালিমা অার ওদের মাও অালিমা।তোমার কোনও সমস্যা হবে না ইনশাআল্লাহ।
উনার এই কথা শুনে সব অভিমান কোথায় যেন মিলিয়ে গেলো।মন চাচ্ছিলো এখনই দৌঁড়ে শ্বাশুড়ি মাকে নিয়ে তালীমে যেতে।কখনও যাওয়ার সৌভাগ্য হয়নি।না জানি কত সুন্দর হবে তালীমে যাওয়ার অভিজ্ঞতা টা।অামি চোখ বুজে খানিকটা শব্দ করে অালহামদুলিল্লাহ বলে উঠলাম।
--কি গো অাহলিয়া?অামি এত কষ্ট করে খোঁজ নিলাম।অার অামার অাহলিয়া অামায় ধন্যবাদটুকুও দিলো না!
কপট অভিমানের সাথে বললেন শায়খ।অামি লজ্জায় চোখ নিচু করে ফেললাম।অাসলেই তো উনাকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিৎ। অাস্তে করে বললাম,
--ঠিক অাছে,খোঁজ নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
--উঁহু,ধন্যবাদ নয়।বলো "জাযাকাল্লাহু খয়রন"।এটা সুন্নাহ তো।
--এই বাক্যটা অনেক জায়গায় দেখেছি অামি।এটার মানে কি?
--এটার মানে হলো,"অাল্লাহ অাপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন।"
অার কেউ যদি তোমাকে জাযাকাল্লাহু খয়রন বলে, তাহলে তুমি তাকে উত্তর দিবে,'ফা জাযাকুমুল্লাহু খয়রন' বলে,কেমন? অবশ্য 'ওয়া অান্তুম ফা জাযাকাল্লাহু খয়রন,ওয়া ইয়্যাক' ও বলা যায়।
এর অর্থ হবে,"আল্লাহ আপনাকেও উত্তম প্রতিদান দিন"।বুঝলে?
--হ্যাঁ,বুঝলাম।এবার রান্নাঘরে যাই কেমন?অাসসালামু অালাইকুম।
ইনশাআল্লাহ চলবে.......

স্বামী ও স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প পর্ব - ৯



পর্ব নয়.....
ফজরের পর উনি কুরঅান নিয়ে এসে বললেন,
--এই নাও।অাজ তুমি কুরঅান পড়ো তো,অামি দেখি, কোথাও ভূল হয় কিনা।
--অাপনার মুখে মুখে পড়লেই তো সঠিকভাবে পারব কুরঅান পড়তে।
--না অামিনা,পারবে না।
--কারণ?
--কারণ হচ্ছে,তাজউইদ!কুরঅান তাজউইদের সাথে তিলাওয়াত করা ফরজ।নাহয় অর্থের বিকৃতি ঘটতে পারে।যেমন ধরো,অামাদের কালিমা তাইয়্যিবার প্রথম অংশ কি বলোতো?"লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" না?এবার এটার অর্থ বলো তো?
--হ্যাঁ....অর্থ হলো,অাল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই।
--এই দেখো,এই 'লা' বলার সময় একটা টান অাছে।দেখো তোমায় অারবীটা দেখাই,এটা কি?লাম অালিফ যবর লা.. না?কিন্তু তুমি যদি টান না দিয়ে পড়ো,তাহলে সেটা হবে 'লাম' যবর লা,তখন এই পূর্ণ কালিমার অর্থ বদলে যায়,তখন এই কালিমার অর্থ হবে,'আল্লাহ ছাড়া নিশ্চয়ই মাবুদ আছে'
নাউযুবিল্লাহ,দেখলে তো কিভাবে অর্থটা বদলে গেল?
অাবার দেখো,সূরা ইখলাসের প্রথম অায়াত,ক্বুল হু ওয়াল্ল হু অাহাদ।খেয়াল করো,শুরুতে যে হরফ অাছে,সেটা কিন্তু কাফ(ك) নয় ক্বফ (ق)।এই হরফটা উচ্চারণের সময় তোমায় একটু ধাক্কা দিয়ে উচ্চারণ করতে হবে।তখন এই ক্বুল শব্দটির অর্থ হবে বলো,অার পুরো বাক্য 'ক্বুল হু ওয়াল্লহু অাহাদ' এর অর্থ হবে,'বলো,তিনিই অাল্লাহ এক এবং অদ্বিতীয়'।
কিন্তু তুমি যদি ক্বুল শব্দটা উচ্চারণের সময় ক্বফের উপর জোর না দিয়ে স্বাভাবিকভাবে 'কুল' পড়ে যাও,তখন পুরো বাক্যটির অর্থ হবে,'খেয়ে ফেলো অাল্লাহ এক',অাস্তাগফিরুল্লাহ!
তারপর অাবার দেখো,একই রকম যেসব অক্ষর অাছে,যেমন ক্বফ(ق)-কাফ(ك),হা(ح),-হা(ه),অালিফ(ا)-অাইন(ع)-হামযা(ء),ছা(ث)-সোয়াদ(ص)-সিন(س),তা(ت)-ত্বোয়া(ط),জিম(ج)-যাল(ذ)-যোয়া(ظ),লাম(ل)-লামঅালিফ(لا)......
এই শব্দের উচ্চারণ গুলো কিছুটা কাছাকাছি বলে অামরা একই উচ্চারণ দিয়ে সমজাতীয় সবগুলো হরফকে উচ্চারণ করি।বাস্তবিকভাবে তোমার মনে হবে,এটা তো নরমাল ই।কিন্তু অাসলে তা না!এটার জন্য
অর্থের কত মারাত্মক বিকৃতি হয়ে যায়!
--বুঝলাম শায়খ,বুঝলাম.....
এখন অাপনি বলুন তো,অাপনি মাশাঅাল্লাহ এত কিছু কিভাবে জানেন?হিফয করেছিলেন?
--নাহ,হিফয করার সৌভাগ্য অামার হয়নি।অার কেবলমাত্র হিফয করলেই সহীহভাবে পড়তে পারব,নাহয় পারব না,এটা কে বললো অামিনা?তাজউইদ শেখা তো ফারজে অাইন।সেটা শেখা তো প্রত্যেকটা মুসলমানের উপর ফরজ।
--ফারজে অাইন?সেটা অাবার কি?
--সেটাও এক প্রকার ফরজ অারকি।
--মানে?ঠিক বুঝলাম না।
--ফরজ মানে কি বলো তো?ফরজ মানে হলো যেটা করতেই হবে,অর্থাৎ অবশ্য পালনীয় কাজ,বুঝেছ?
--হু,তা তো জানি ই।
--অার এই ফরজ দুই প্রকার,
১.ফারজে অাইন।
২.ফারজে কেফায়া।
এখন অাসি ফারজে অাইন নিয়ে কেমন?
প্রাপ্ত বয়স্ক সবার উপর যাই বাধ্যতামূলক তাই ফরজে অাইন। যেমন,পাঁচওয়াক্ত নামাজ ও রমজানের রোজা,সামর্থ্য হলে হজ্ব,যাকাত,পর্দা,তাজউইদসহ কুরঅান তিলাওয়াত,ইত্যাদি।
অার ফারজে কেফায়া হলো,যা মুসলমানের জন্য ফরজ কিন্তু সবার পক্ষ থেকে একজন পালন করলে সবার অাদায় হবে তা।
যেমন, জানাযার নামাজ,হিজরী তারিখের হিসাব রাখা,পরশুদ্ধি ইত্যাদি.....
বুঝলে?ক্লিয়ার হলো?
--হু,বুঝলাম।অাচ্ছা,এখন তো সকাল হয়ে গেছে।অামরা কালকে থেকে পড়বো কেমন?
--না,এখন থেকেই পড়বো।জানো সূরা মুযযম্মিলের চার নং অায়াতে অাল্লাহ অামাদের স্পষ্টভাবে কুরঅান তিলাওয়াতের অাদেশ দিয়েছেন।অার জানো হাদিসে অাছে,"তোমরা তোমাদের ধ্বনির সাহায্যে কুরআনকে সুষমামন্ডিত কর, অথবা তোমরা কুরআনকে তাজউইদ ও তারতীলের সাথে সুন্দরভাবে পাঠ কর।"
সম্ভবত এটা অাবু দাউদের ১৪৬৮ নং হাদিস।এখন দেখি এদিকে এসো।খাতাটা দাও।অামি লিখছি তাজউইদ কি.........
ইনশাআল্লাহ চলবে....

স্বামী ও স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প পর্ব - ৮



পর্ব অাট.....
প্রথম প্রথম অামি একদমই অানাড়ি ভাব নিয়ে শাশুড়ি মায়ের কাছে রান্না শিখতাম।কত বকা যে খেয়েছি,রান্নায় অানাড়ি বলে,তা বলার বাইরে।প্রতিদিন নিয়ম করে রান্না করতাম মায়ের সাথে।মাঝেমাঝে হাত পুড়ে যেত,অামি মাছ কাটতে পারতাম না,প্রথম প্রথম কাটতে গেলে হাত কেটে যেত,অামার শাশুড়ি মায়ের একটা অভ্যাস হলো,তরকারির যেই অাইটেমই থাকুক না কেন,গোটা এলাচ ছাড়া রান্না করলে মা মুখে তুলতে পারতেন না,মায়ের মনমতন করে রান্না শিখছিলাম।বড় জা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে চাকুরীরত ছিলেন,অামার শায়খ সকাল নয়টায় বের হতেন,ফিরতেন রাত নয়টায়।অার দেওররা সকাল দশটা-এগারোটার পর কেউ ঘরে থাকতো না বললেই চলে।পুরো বাড়িতে অামি অার মা!তাই অনিচ্ছাবশত হলেও মাকে অামার সাথে কথা বলতেই হতো।অামি প্রতিদিন বিকেল বেলা মায়ের চুলে তেল লাগিয়ে দিতাম,বেণী করে দিতাম।প্রথম প্রথম মা অবজ্ঞা করলেও,ধীরে ধীরে তিনিও অামার সাথে ফ্রি হচ্ছিলেন।একদিন লাজ লজ্জা একপাশে সরিয়ে মায়ের কাছে গিয়ে চোখ নিচু করে,লজ্জা লজ্জা ভাব এনে জিজ্ঞেস করেছিলাম,
"মা!নাতী লাগবে?নাকি নাতনী?"
মা কিছুক্ষণ অামার দিকে চোখ লাল করে তাকিয়ে থেকে তেড়ে অাসলেন।অামার অাম্মাকে ফোন করে একগাদা বিচার দিলেন অামার নামে।পরে অবশ্য নিজেই হাসতে হাসতে বলেছিলেন,একটা নাতনী লাগবে উনার।না না!নাতনী না,বোন লাগবে উনার।জিজ্ঞেস করলেন,কবে দিতে পারব!
শুনে লজ্জায় অামার প্রাণ যায় যায় অবস্থা।কোনোমতে রুমে ফিরে শায়খের সাথে কপট রাগ দেখাচ্ছিলাম।অাসলে এই প্ল্যানটা উনারই ছিলো তো!
ধীরে ধীরে মায়ের সাথে অামার দূরত্ব কমে অাসছিল।তবে মায়ের মনে ক্ষোভ ছিল,অামাদের অালাদা ঘরের জন্য।একদিন ইশার পর অামি শায়খকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, অাসলেই কি অালাদা ঘরের প্রয়োজন ছিল?
অামার শায়খ হেসে উত্তর দিলেন,
--এটা তোমার হক তো অামিনা।জানোই তো হাদিসে অাছে দেওর ভাবির জন্য মৃত্যুর সমান।অার তোমার তো একটাও ননদ নেই,সবাই ই দেওর,গায়রে মাহরাম।এদের সাথে তো তোমার পরদা ফরজ, তাইনা?তোমার যাতে পর্দার সমস্যা না হয়,ফ্রিলি মুভমেন্ট করতে পারো,
তাই ই অামায় অালাদা ঘর করতে হয়েছে।
--কিন্তু এতে লাভ কি?অামায় তো দিনের সিংহভাগ সময় ই ওই ঘরে থাকতে হয়।যদিও পর্দা করি,কিন্তু অস্বস্তি লাগে খুব!
--অাশা করা যায় খুব বেশীদিন তোমায় এই কষ্ট সহ্য করতে হবেনা অামিনা!সবর করো......
--অাচ্ছা,অাপনাদের বাড়ির অাশেপাশে কোনও তালিম হয়না,মহিলাদের নিয়ে?
--উঁ,বলতে পারছিনা।অাগামীকাল খোঁজ নিয়ে জানাব ইনশাআল্লাহ!এখন অাসো তো,ঘুমানোর দুঅা পড়ি,জানো না,রসূলুল্লাহ সল্লাল্লহু অালাইহি ওয়া সাল্লাম কখনও ইশার পর বেশী রাত জাগাকে পছন্দ করতেন না?
--তা তো জানি।কিন্তু অাপনি মনে হয়,কিছু একটা ভুলে যাচ্ছেন।
--ভুলে যাচ্ছি?!কি বলো তো!
--অাপনি কি ভুলে গেলেন,বুখারী শরীফে অাছে,ঘুমানোর অাগে উযু করা সুন্নত?!অথচ অাজ অাপনি উযু না করেই শুয়ে পড়েছেন!
--ইশ!একদম ভুলে গিয়েছিলাম।শুকরিয়া অামিনা,মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য,অামি এখনই অাসছি।
উযু করে এসে শায়খ দুই রাকাত নামায পড়লেন দেখলাম।অামি তো অবাক হয়ে গেছি!কি অদ্ভুত!!একটু অাগেই না তিনি মাসজিদ থেকে এলেন,অামার কোলে মাথা রেখে কুরঅানও পড়লেন।এখন অাবার কিসের নামায!
উনি সালাম ফিরিয়ে উঠতেই উনাকে বললাম,
--এটা কিসের নামায ছিল!?
--এটা?এটা তো তাহিয়্যাতুল উযু ছিল।উযুর পর দুইরাকাত নফল নামায পড়া।
--এটা কেন পড়লেন?মানে,এটার ফজিলত কি?
--এটা সুন্নাহ তো।রসূলুল্লাহ বলেছেন,'যে ব্যক্তি আমার অজুর মতো অজু করে এমভাবে দুই রাকাআত নামাজ পড়বে যে তার মনে কোন অন্য কোন ধারণা/কল্পনা জাগ্রত হবে না বা মনে মনে অন্য কোন কথা চিন্তা করবে না তাহলে তার পূর্বের সকল সগীরা গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে'।
--কই!এতদিন তো এই নামায সম্পর্কে বলেন নি অাপনি।মানে অাপনি জান্নাতে একা ই যেতে চান,তাইতো?বুঝলাম।
অামি অভিমানের সাথে এটুকু বলে ওপাশ ফিরে শুয়েছিলাম।তিনি অামায় টেনে তার কাছে অানলেন।
--এই যে অামিনা!শুনুন,অভিমান,অভিযোগ,রাগ,দুঃখ,কষ্ট সব স্বামীর বুকের মাঝে এসে করবেন,বুঝলেন?এতে ভালবাসা বাড়বে।
--লাগবেনা ভালবাসা,যে অামাকে জান্নাতে নিতে চায়না,তার জন্য কিসের ভালবাসা?ছাড়ুন অামাকে।
--না ছাড়লে কি করবে শুনি?সেদিনের মতন কুঁই কুঁই করে বলবে,"অাই নিড সাম টাইম...."
বলে হেসে উঠলেন তিনি।প্রায়সময় ই সেদিনের এই কথাটা বলে রাগান উনি অামাকে।অামি অাগে রাগলেও,এখন অার রেগে যাইনা।নিজের বোকামির কথা মনে পড়লে নিজের ই লজ্জা লাগে।
--অামিনা!একটা কথা বলবো,যদি কিছু মনে না করো.......
--ওমা!কি মনে করব অাবার?বলেন তো।
--না,অাসলে....
সেদিন দেখলাম গায়রে মাহরাম কয়েকজন তোমার ফ্রেন্ডলিস্টে অাছে।পাশাপাশি তুমি উনাদের দাওয়াত দিচ্ছো।এটা তো ঠিক না অামিনা!
--কেন?ঠিক না কেন? অামি তো বেহুদা অালাপ করছিনা।দ্বীনের দাওয়াত ই দিচ্ছি,তাহলে সমস্যা কোথায়?
--ও অামিনা!তুমি জানো,সূরা অাহযাবের বত্রিশ নং অায়াতে তোমাকে অাদেশ করা হয়েছে,গায়রে মাহরামের সাথে কথা বলায় কঠোরতা অবলম্বন করতে।এতে করে তার তোমার প্রতি অাকৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে।অার এটা তো জানো ই,দ্বীনের দাওয়াতে কঠোরতা অবলম্বন করতে পারবে না।এর বিরুদ্ধে স্পষ্টত নিষেধাজ্ঞা অাছে।
--কিন্তু....
--দাঁড়াও বুঝিয়ে বলি।দাওয়াত দেওয়ার নিয়ম হচ্ছে,দায়ীকে অবশ্যই ই বিনয়ের সাথে,নম্রতার সাথে,কোমল ভাবে দাওয়াত দিতে হবে।দ্বীনের দাওয়াতের ক্ষেত্রে কোনওভাবেই কঠোরতা অবলম্বন করা যাবে না।পাশাপাশি নারীর উপর অাদেশ অাছে,পরপুরুষের সাথে কথা বললেই কঠোরতা অবলম্বন করতে হবে।তাহলে তুমিই বলো,একজন নারী একজন গায়রে মাহরামকে কিভাবে দ্বীনের দাওয়াত দিবে,যেখানে তার উপর অাদেশ অাছে কঠোরতা অবলম্বন করার,অার দাওয়াত দানের মূল শর্তই হলো কঠোরতা অবলম্বন না করা?এটা ডাবল স্ট্যান্ডার্ড হয়ে যাচ্ছে না?
--তা ঠিক,কিন্তু অামি তো সরাসরি বলছি না।
--জীবন যাপনের ক্ষেত্রে অনলাইনের বিধানগুলো সম্পূর্ণ অফলাইনের মতনই হবে গো অাহলিয়া।পাশাপাশি দেখ,এটা ই শেষ নয়,গায়রে মাহরামের সাথে কথা বলা তখনই জায়েজ,যখন সেখানে ওযর থাকবে,পাশাপাশি পরস্পর পরস্পরের উপর অাকৃষ্ট হওয়ার অাশংকা ও থাকবে না।কিন্তু তুমি একটা বিষয় ভাবো,তুমি যখন গায়রে মাহরাম কাউকে দাওয়াত দিবে,তখন সে কিন্তু অাপনাতেই তোমার প্রতি মুগ্ধ হবে।বারবার ভাববে,
"অাল্লাহ!এই মেয়েটা এত জানে!!"
ব্যস!বদনজর লেগে যাবে।
--বদনজর?!অাপনি বদনজরে বিশ্বাস করেন?
--করব না কেন?এটা নিয়ে কত হাদিস অাছে জানো?এই বদনজর একজন মানুষকে এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে যে,কবর পর্যন্ত নিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
--বুঝলাম,তারপর?
--এই দেখো,দ্বীনের লেবাসে শায়ত্বান হাজির!!জানোই তো নারীর জন্য পুরুষ অার পুরুষের জন্য নারীর জন্য পুরুষের চেয়ে বড় ফিতনা অার কিছু নেই।পাশাপাশি দেখো,একজন নারী অার একজন পুরুষ নির্জনে থাকলে সেখানে তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে শায়ত্বানের উপস্থিতি থাকে।অার জানোই তো,শায়ত্বান অাদম সন্তানকে পথভ্রষ্ট করার জন্য কত কু প্ররোচনা দেয়।এইজন্যই তো দেখো না,বাবা কর্তৃক মেয়ে ধর্ষণ,ভাই কর্তৃক বোন ধর্ষণ,পরিবারের পুরুষ সদস্য,পাশের বাড়ির প্রতিবেশী কর্তৃক সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট এখন অহরহ হচ্ছে।
--কিন্তু অনলাইনে কি অামরা নির্জনে থাকছি নাকি?
--ইনবক্স!!ইনবক্স তো নির্জন স্থানই,তাইনা বলো?
--বুঝলাম এটা।কিন্তু একটা বাড়তি প্রশ্ন,সেদিন অামি একটা ফাতওয়া পড়েছিলাম,নারীর কণ্ঠস্বর পর্দার অন্তর্ভুক্ত নয়,তাহলে.....?
--হু,যথার্থ পড়েছ। নারীর কণ্ঠস্বর পর্দার অন্তর্গত নয়।কিন্তু খেয়াল করো,প্রতিবারই কথা বলা তখন জায়েজ হবে,যখন কথা বলার একান্ত জরুরত হবে,পাশাপাশি অাকৃষ্ট হওয়ার অাশঙ্কাও থাকবে না।
--তাহলে অাপনিই বলুন,অাম্মাজান অায়শা কি হাজার হাজার সাহাবাকে হাদীস শিক্ষা দেন নি?কিভাবে দিয়েছেন?
--উনি দিতে পেরেছেন,কারণ পরিস্থিতি উনার অনুকূলে ছিল।রসূলুল্লাহর ওফাতের পর তার স্ত্রীদের অন্য পুরুষ কর্তৃক বিবাহ করা হারাম ছিলো।পাশাপাশি সাহাবাদের ঈমান এতই তেজদীপ্ত ছিলো যে,তারা দৃষ্টি অবনত রাখতেন,অাম্মাজানের প্রতি অাকৃষ্ট হওয়া তো দূর কি বাত,সর্বদা সকল প্রকার কলুষতা থেকে মুক্ত থাকার চেষ্টা করতেন।কিন্তু তোমার পরিস্থিতি তো ভিন্ন,তাইনা বলো?
অামি চোখ বন্ধ করে মনের গভীর থেকে রব্বের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলাম।অার অামার শায়খকে যাতে ইহকাল অার অাখিরাত,উভয় কালেই জাযাহ দেন,তা প্রার্থনা করলাম।চোখ খুলে দেখি অামার শায়খ ড্যাবডেবে চোখে তাকিয়ে অাছেন অামার দিকে।এবার অামি ঠিক উনার উল্টোটা করলাম,তাকে চোখ মারলাম!!
প্রথমবারের মতন।তারপরই মোবাইলটা হাতে নিয়ে ফেসবুকে লগিন করলাম।এখন অামার কি করণীয়,অামি তা জানি।
ইনশাআল্লাহ চলবে.........

স্বামী ও স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প পর্ব - ৭



পর্ব সাত.....
শাশুড়ির মন জেতার যথেষ্ট টিপস দেওয়ার পর শায়খ ঝাড়ু নিয়ে ঘর ঝাড়ু দিতে গেলেন।অামার তো চক্ষুচড়ক অবস্থা!!তিনি নাকি ঘর ঝাড়ু দিবেন!!এটা তো অামার কাজ!!!!অামি তার হাত থেকে ঝাড়ু নিতে গেলেই তিনি চওড়া হাসি দিয়ে বললেন,
"ঘরের কাজে অাহলিয়াকে সাহায্য করা সুন্নাহ তো।তুমি এক কাজ করো,দেখো তো তাকে ডিম থাকার কথা,ডিম অাছে কিনা।অার দেখো চালের গুড়া অাছে কিনা,কাঁচা মরিচও
অাছে মনে হয়।তুমি বরং এক কাজ করো,নাস্তা বানানোর মতন কি কি অাছে দেখ।অামি অাসছি"
অামি উনার কথামত সব খুঁজে বের করতে করতেই উনি চলে এসেছেন।অামার হাতে হাতে সাহায্য করলেন নাস্তা বানাতে।বানানোর পর ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বললেন,
--অামিনা!অাম্মা ফজর পড়েই অাবার ঘুমান।উঠেন সাতটার পর,বাড়ির সবাই একই সময়ে উঠে।তুমি একটা কাজ করো,নিকাব পড়ে নাও,তারপর চলো নাস্তা নিয়ে অামরা ওই ঘরে যাই!
--অাচ্ছা,এই অালাদা ঘরের কি দরকার ছিল?
--ছিল বৈকি!এটা তোমার হক্ব তো।কয়েকদিন একটু কষ্ট হবে।তারপরই ইনশাআল্লাহ সব ঠিক হয়ে যাবে।সবর করো অামিনা!
নাস্তা নিয়ে ওই ঘরে যখন গেলাম,তখনও শাশুড়ি মা উঠেন নি।তিনি অামায় নিয়ে টেবিলে খানা সজালেন।মাকে ডেকে তুললেন।মা অামার সামনে অাসা মাত্র অামি সালাম দিলাম।অার উনি উত্তর না দিয়েই বলে উঠলেন,
--তুমি এখানে কেন এসেছ?অামার সংসার ভেঙে শান্তি পাওনি?ঘর অালাদা করে শান্তি পাওনি?হাড়ি অালাদা করে শান্তি পাওনি?এখন এগুলো এনে ভালমানুষী দেখাচ্ছো?চেনা অাছে তোমার মত......
--ও অাম্মা!তুমি রাগ করে অাছ এখনও?
শাশুড়ি মায়ের কথার মাঝখানে বলে উঠলেন শায়খ.....
অামিনা,জানো!অাম্মার খুব পছন্দের খানা হলো নেহারি অার চালের গুড়ার রুটি।অামি অাজকে ফেরার সময় গরুর পায়া নিয়ে অাসব ইনশাআল্লাহ!ও মা!নাকি খাসীর পায়া অানতাম?
--কুত্তার পায়া চিনিস?ওইটা এনে তোর বউকে খাওয়া।অামার সামনে এসব নেকামি করবি না।ভাল সাজতে হবে না।
এটা বলেই মা উনার রুমের দিকে যাচ্ছিলেন।
অামার শায়খ উনার পা জড়িয়ে ধরে ফেললেন।
--ও মা!তুমি এখনও রাগ করে অাছ?তোমার ছেলের উপর রাগ করে অাছ গো মা?অামি নাহয় ভুল করেছি,এই মেয়েটা কি করেছে বলো?ও তো জানতো না,অামি অালাদা ঘর করছি ওর জন্য।অার ওকে দেখতে গিয়ে তো তুমিই বলেছিলে,ওকে দেখতে মায়া লাগে খুব।এখন ওকে এভাবে দূরে সরিয়ে দিচ্ছো কেন?ওর তো দোষ নেই।
--পা ছাড় অামার।ও ই দায়ী,অামার সংসারের ভাঙনের জন্য ও ই দায়ী।তখন বলেছিলাম ওকে দেখতে মায়া লাগে।এখন বলি শুন,এরকম কালো মেয়ে অামি অাগে কখনও দেখিনাই।গায়ের রংটা কেমন ময়লা।অামার ওকে পছন্দ না।দেখি পা ছাড়।এসব নাটক করিস না।
--ইন্নালিল্লাহ!মা!এসব কি বলো?তুমি তো এমন ভাবে কথা বলো না।অামার উপর রাগ বলে তুমি অাল্লাহর সৃষ্টিকে অবজ্ঞা করবে? ও মা! তুমি অামার উপর এখনও অসন্তুষ্ট? তাহলে দুঅা করো অামি যাতে অাজ রাস্তায় বের হলে এক্সিডেন্ট করে বসি।জানো তো,মায়ের দুঅা বিদ্যুৎ গতিতে অাল্লাহর কাছে পৌঁছে।দুঅা করো যাতে অামি মরি....
--চুপ কর বেয়াদব!তোর মরার জন্য তোকে জন্ম দিয়েছিলাম অামি?উঠ তুই,উঠ এখনই।
--অাগে বলো মাফ করে দিছ।
--তোকে মাফ করলেও ওই মেয়েকে মাফ করবোনা অামি।ওর জন্য অামার ছেলে অালাদা হয়ে.....
কান্নায় কথা অাটকে গেলো মায়ের।মা কাঁদছেন।অামার শায়খও কাঁদছেন।অামার শায়খ খুব অাহ্লাদ করে মায়ের হাতে খেতে চাচ্ছেন।মা কড়া ভাবে বলে দিয়েছেন, অামার তৈরি করা নাস্তা খাবেন না।তবুও অামার শায়খের অাবদারের কাছে হেরে গিয়ে উনাক খাইয়ে দিচ্ছেন মা।অামার শায়খ অামার হাত ধরে পাশে বসালেন মায়ের হাতে খাওয়ানোর জন্য।বিড়বিড় করে কিসব বলার পর অনিচ্ছা সত্ত্বেও অামাকে মা খাইয়ে দিয়েছেন।অামি হতভম্ব হয়ে বসে ছিলাম।কি করা উচিৎ বুঝছিলাম না।এমন সময় বড় জা এসে টিপ্পনী কাটছিলো.....
--ওমা!অাপনি এর হাতের রান্না খেলেন?গতকাল কত বেলা করে গিয়ে দেখি ও নাপাক মেয়ে,গোসল টুকুও করেনি।অাজ ও করেনি মনে হয়।এই অশূচী মেয়ের হাতের খাবার খেলেন অাপনি?
শায়খকে দেখলাম প্রশস্ত হাসি হেসে মায়ের দিকে তাকিয়ে বলছেন,
--অার বলিও না মা,ওকে এসব তো শেখাতে হবে তাইনা?এটা তো অামিনার প্রথম বিয়ে, তাই কি করা উচিৎ বুঝেনা ও।অাজকে কি হয়েছে শুনবে?অাজকে ও.....
--এই ছেলে!তোর মাথা খারাপ?প্রথম বিয়ে মানে কি?মেয়েদের কি দশ বারোটা বিয়ে হয় নাকি?ও মেয়ে জানেনা,তো অামাকে জিজ্ঞাস করবে না?শেখার অাগ্রহ না থাকলে অামি কিভাবে শেখাব?অামি কি যেঁচে গিয়ে শেখাব নাকি?
অামার ঠেকা,হুহ!
--এই জন্যই তো কালকে তোমাকে ওই ঘরে যেতে বললাম।তুমি রাগ করে যাওনি।তুমি না শেখালে ও শিখবে কার থেকে বলো তো?তোমার চেয়ে ভাল শিক্ষিকা এই দুনিয়ায় অাছে নাকি অার?
অামি বুঝতে পারছিলাম,শায়খ এসব কথা মায়ের মন নরম করার জন্য বলছেন।তাই অামার অজান্তেই অামার মুখে হাসি ফুটে উঠেছিল।অাচমকা শাশুড়ি মা অামার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলেন,
--রান্না বান্না কিছু পারো?নাকি সেটাও শেখাতে হবে?
--অল্প একটু পারি,অাসলে.....
--দেখি রান্নাঘরে যাও,ফ্রিজে ডিম অাছে।ভেজে অানো,যাও।
অামি অাবারও গাধার মত বসে অাছি।রান্নাঘর কোথায়,ফ্রিজ কোথায়,কিছুই তো জানিনা অামি।অামতা অামতা করে জিজ্ঞেস করলাম,
--অামি তো রান্নাঘর চিনিনা....কোনদিক দিয়ে......
--হয়েছে অার বলা লাগবেনা।রূপা,যাও তো ওকে রান্নাঘরে নিয়ে যাও।রান্নাঘরে পৌঁছে দিয়েই চলে অাসবে।অার দেখি তো তোমার হাতে ফোন অাছে কিনা।এখন তো মেয়েরা ইউটিউব থেকে দেখে সব রান্না করে।দেখি হাত দেখাও.......
রূপা অামার বড় জায়ের নাম।ডিম ভাজার সময় অামি ইচ্ছে করেই নুন দিইনি,শায়খ বলেছিলেন এমন একটা ভাব করতে যাতে মনে হয় অামি একদমই অানাড়ি।এতে দুইটা লাভ,
এক.মা বুঝতে পারবেন,তাকে ছাড়া সংসার অচল।
দুই.মা রান্না শেখাবেন।এতে রান্না শেখার বাহানায় মায়ের কাছে বেশীক্ষণ থাকা যাবে।ফলে দূরত্ব ও কমে যাবে তাড়াতাড়ি।
অামি শায়খের ট্রিকস ফলো করে ডিম ভেজে মাকে দিলাম।মা একটুখানি মুখে দিয়েই বললেন,
--অাল্লাহ গো!এইটা কি ভেজেছে?নুন কোথায় নুন??ডিম ও ভাজতে জানোনা?
--ভুলে গিয়েছিলাম মা,অামি অাবার করে অানছি।
কাতর কণ্ঠে বললাম।
--থাক থাক লাগবে না।তোমার দৌড় অামার বোঝা শেষ!দেখলি বেটা,কাকে বিয়ে করে অানলি?ডিমও ভাজতে পারেনা।
--তুমি শিখিয়ে দিও তো মা।অাসলেই দেখছি অামিনা রান্নাটা পারে না।
--হ্যাঁ,হ্যাঁ!শিখাতে তো হবেই।ঠেকা অামার কিনা!না শেখালে অামার ছেলেকে ডেইলি না খেয়ে,নুন ছাড়া খানা খেয়ে থাকতে হবে।অাবার ঘরও অালাদা করেছে তারা।অামাকে ছাড়া ঘর চলবে?এই মেয়ে,তুমি তাড়াতাড়ি খেয়ে নাও।এখনই রান্নাঘরে ঢুকবে অামার সাথে।
মা কড়া নির্দেশ দিয়ে নিজের রুমে গেলেন।অামি শায়খের দিকে তাকানো মাত্রই তিনি অামায় চোখ মারলেন।মুখে সেই প্রশান্তির হাসি.............
চলবে ইনশাআল্লাহ............